| ‘কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ’ (শিক্ষাষ্টক ৩)। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু উপদেশ দিচ্ছেন—তোমরা সর্বদা, চব্বিশ ঘণ্টা, হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করবে। তাহলে তুমি সর্বদা কৃষ্ণের সংস্পর্শে থাকবে—যেমন লোহার দণ্ড আগুনের সংস্পর্শে থাকে। আর ধীরে ধীরে, যেমন লোহার দণ্ড আগুনের মতোই জ্বলন্ত হয়ে ওঠে, তেমনি ক্রমাগত কৃষ্ণের সংস্পর্শে থাকলে তুমি কৃষ্ণময় হয়ে উঠবে—তাঁর গুণাবলীর অংশীদার হবে। এটাই কাম্য।বর্তমানে আমরা বস্তুজগতের আবরণে আবৃত। ভেতরে আমরা আছি। ‘দেহিনোহস্মিন্ যথা দেহে’ (ভগবদ্গীতা ২.১৩)। এই দেহের ভিতরে আমরা আত্মা। বাইরে আছে দেহ। যেমন তোমার কোটের ভেতরে তুমি আছো, কিন্তু কোটটি বাইরে। যখন কোট ও শার্ট খুলে ফেলা হয়, তখন তুমি তোমার আসল দেহে থাকো। ঠিক তেমনি, যখন এই বস্তুগত আবরণগুলো দূর হয়ে যায়, তখন আমরা আমাদের প্রকৃত সত্তা—আত্মা—হিসেবে প্রকাশিত হই।
|